মেহেদী রিপোর্ট

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাড়ছে অবৈধভাবে গরু প্রবেশের প্রবণতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে মিয়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হচ্ছে এসব পশু। এতে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে দেশীয় খামারিরা। মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা ১টি ট্রাক গাড়িসহ ১০টি গরু নিয়ে চালককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঈদগাঁও ইউনিয়নের মেহেরঘোনা ৪নং ওয়ার্ড এলাকায় একটি এলপিজি পেট্রোল পাম্পের কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সামনে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আনা ১০টি গরু জব্দ করেছে পুলিশ। এসময় গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাকসহ আটক করা হয় চালককে। গাড়ির (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ভোলা-ড-১১-০৪১১)।

আটককৃত চালক সিরাজুল ইসলাম (২৫), রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ার ঘোনার আব্দুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় আরও দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঈদুল আজহা ঘিরে চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তাই মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকছে গরুর চালান। পরে ট্রাক কিংবা ছোট ছোট পরিবহনে করে সেগুলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে পশুর হাটে।

পুলিশ জানায়- মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা গরু পাচার হচ্ছে খবর পায় পুলিশ। তাই কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁও ইউনিয়নের মেহেরঘোনা এলাকায় চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। তল্লাশিকালে রামুর পানিরছড়া বাজার সড়কের দিক থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন ট্রাককে থামানোর সংকেত দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গাড়িটি থামার সঙ্গে সঙ্গেই পেছনে থাকা দুই ব্যক্তি ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে চালককে আটক করা হয়।

“পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১০টি গরু। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি লাল ও ৩টি সাদা রঙের গরু। জব্দ করা হয় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকটিও। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।”

পুলিশ আরও জানান- কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে গরুগুলো আনা হয়েছিল। এগুলো ঈদগাঁও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন আটক চালক।

ঈদগাঁও থানার পরিদর্শক এটিএম সিফাতুল মাজদার বলেন- মিয়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হচ্ছে এসব পশু। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। তবে চোরাচালান রোধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। সীমান্ত ও মহাসড়কে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এটিএম সিফাতুল মাজদার আরও বলেন- এ ঘটনায় ঈদগাঁও থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে জনমনে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে, সাধারণ জনগণের প্রশ্ন- ঈদগাঁও কোরবানির পশুর হাটে তো প্রতিদিন শত শত মায়ানমার ও ইন্ডিয়ান অবৈধ গরু পুলিশের সামনে প্রবেশ করে বৈধতা পাচ্ছে। শত শত অবৈধ গরুর মাঝে মাত্র ১০টি গরু জব্দের বিষয়কে অনেকেই গরু চোরাকারবারিদের দ্বন্দ্বের ফসল হিসেবে দেখছেন। তারা প্রতিপক্ষকে সুবিধা দিতেই ১০টি গরু জব্দ করেছে বলে মনে করছেন।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন- প্রতিবছর কোরবানীর ঈদ আসলে সীমান্ত হয়ে চোরাই পশু আনার হিড়িক বেড়ে যায়। পাহাড়ি পথ বেয়ে দুর্গম সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন কক্সবাজারে প্রবেশ করছে চোরাই গরু, দেশীয় খামারিরা পড়ছে ঝুঁকিতে। সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও কঠোর মনিটরিং বাড়ানো না গেলে কোরবানির মৌসুমে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা গরুর প্রবেশ ঠেকানো কঠিন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *