তুচ্ছ ঘটনার বলি সেলুন কর্মী; দুই বছর পর শহীদ মিনার এলাকা থেকে গ্রেফতার করল র্যাব-১৫

মেহেদী রিপোর্ট:
কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সেলুন কর্মী কিশোর সুকান্ত (১৫) নির্মমভাবে নিহত হওয়ার মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আরাফাত (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে র্যাবের আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আরাফাত কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া (বাগানপাড়া) এলাকার সিরাজুল হকের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থান নেয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে আভিযানিক দল দক্ষ কৌশল অবলম্বন করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার নথি ও র্যাব সূত্রে জানা যায়- ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমিতিপাড়া এলাকায় ফুটবল খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয় কিশোর সেলুন কর্মী সুকান্ত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে সে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকে।
এলাকাবাসীর স্বস্তি এদিকে দীর্ঘ দুই বছর পর ঘাতক আরাফাতের গ্রেফতারের খবরে সমিতিপাড়া এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা আবেগপ্লুত হয়ে বলেন- “একটি তুচ্ছ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর সুকান্তের জীবন প্রদীপ নিভে গিয়েছিল। ঘটনার পর আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকায় আমরা ভেবেছিলাম হয়তো সুকান্ত হত্যার বিচার আর পাব না। র্যাবের এই পদক্ষেপে আমরা আবার বিচার পাওয়ার আশা খুঁজে পেয়েছি। আমরা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে র্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বলেন- “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাব অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সমিতিপাড়ার আলোচিত সুকান্ত হত্যা মামলার পর থেকেই আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার ছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আসামি আরাফাতকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধীদের দমনে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
