নিজস্ব প্রতিবেদক:
শব্দ যখন শুধু শব্দ থাকে না, হয়ে ওঠে জীবন তখনই জন্ম নেয় এমন এক স্বীকৃতি, যা শুধু অর্জন নয়, এক ইতিহাস। সেই ইতিহাসের নতুন নাম এখন আমান উল্লাহ। দৈনিক কক্সবাজার সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক যিনি কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত গীতিকার হিসেবে মনোনীত হয়ে স্পর্শ করেছেন এক অনন্য উচ্চতা।
এ অর্জন হঠাৎ আসেনি। এর পেছনে আছে সময়ের সঙ্গে লড়াই, নীরব অশ্রুর অসংখ্য রাত, আর বুকের ভেতর জমে থাকা অজস্র না বলা গল্প। একদিকে সংবাদপত্রের দায়িত্বশীল সম্পাদনার ভার, অন্যদিকে শব্দের ভেতর নিজের আত্মাকে ঢেলে দেওয়ার অবিরাম সাধনা এই দ্বৈত পথচলায় তিনি হয়ে উঠেছেন এক ভিন্নমাত্রার সৃষ্টিশীল যেন মহাপুরুষ।
তাঁর লেখা গানে পাওয়া যায় মানুষের অন্তর্গত আর্তনাদ, মাটির গন্ধমাখা জীবন, প্রেমের অপূর্ণতা আর সময়ের নির্মম সত্য। প্রতিটি শব্দ যেন কেবল লেখা নয় একেকটি বেঁচে থাকা মুহূর্ত, একেকটি জমে থাকা অনুভূতির বিস্ফোরণ।
এই স্বীকৃতি প্রসঙ্গে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আমান উল্লাহ বলেন- “আজ মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে বুকের ভেতর জমে থাকা নিঃশব্দ কষ্ট, অপ্রকাশিত অনুভূতি আর না বলা গল্পগুলো যেন একটি পরিচয় পেল। এটি আমার জন্য শুধু সম্মান নয় এটি আমার অস্তিত্বের স্বীকৃতি।”
তিনি আরও বলেন- “আমি বিশ্বাস করি, সত্যিকারের গান মানুষের হৃদয়ের ভাষা হয়ে ওঠে। আমি চেষ্টা করবো এমন কিছু লিখতে, যা মানুষের ভেতরের অন্ধকার, আলো, ভালোবাসা আর দুঃখ-কষ্ট সুখ-বেদনার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে।”
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অভিজ্ঞজনরা মনে করছেন- আমান উল্লাহর এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত নয় এটি কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক ভুবনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে, মফস্বলের মাটিতেও জন্ম নেয় এমন শব্দশিল্পী, যাদের সৃষ্টিতে ধ্বনিত হয় সময়ের স্পন্দন।
নতুন প্রজন্মের জন্য এটি এক শক্তিশালী বার্তা স্বপ্ন যদি সত্য হয়, সাধনা যদি নিরলস হয়, তবে একদিন না একদিন সেই স্বপ্ন আলো হয়ে জ্বলে ওঠেই।
কক্সবাজারের আকাশে আজ যেন ভেসে বেড়াচ্ছে সেই শব্দের প্রতিধ্বনি একজন লেখকের জয়, এক জীবনের স্বীকৃতি, এক হৃদয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।
