মেহেদী রিপোর্ট
কক্সবাজারের উখিয়ায় বনসম্পদ রক্ষা ও অবৈধ পাচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় ০৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উখিয়া রেঞ্জ এবং বিজিবি রেজু আমতলী বিওপি’র যৌথ উদ্যোগে একটি সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ৫০ টুকরা আকাশমনি গোলকাঠ (আনুমানিক ৮০ ঘনফুট) এবং দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা রাস্তা ওপর গাছ ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গতকাল শনিবার (০৩ অক্টোবর) বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় উখিয়া রেঞ্জ কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং বিজিবি রেজু আমতলী বিওপির যৌথ চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে নেতৃত্ব দেন উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এবং বিজিবি রেজু আমতলীর সংশ্লিষ্ট কমান্ডারগণ। যৌথ বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বনভূমি ধ্বংসের এই অপচেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নস্যাৎ করা সম্ভব হয়।
যৌথ অভিযানের সময় উখিয়া রেঞ্জ এলাকা ও রেজু আমতলী সীমান্তবর্তী সংযোগ সড়কে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে কেটে পাচার করা ৫০ টুকরা আকাশমনি গোলকাঠ উদ্ধার করা হয়, যার পরিমাণ প্রায় ৮০ ঘনফুট। এছাড়া পাচারকাজে ব্যবহৃত ২টি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আটক করা হয়। যৌথ বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে অপরাধীরা একটি ডাম্পার গাড়িতে করে পালানোর চেষ্টা করে এবং রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। বর্তমানে জব্দকৃত কাঠ ও মোটরসাইকেলগুলো বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, “আমাদের বনভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বনবিভাগ সর্বদা সজাগ রয়েছে। পাহাড় বা জঙ্গল কেটে অবৈধভাবে কাঠ পাচারের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। বিজিবি ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আকাশমনি কাঠ ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। যারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এই সফল যৌথ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। পরিবেশকর্মীরা মনে করেন, উখিয়ার বনভূমি রক্ষায় এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশবাদী সংগঠনের এক প্রতিনিধি বলেন, “উখিয়ার পাহাড় ও বন উধাও করার জন্য একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। বন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান ও বিজিবি যৌথভাবে যেভাবে তৎপরতা শুরু করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা চাই এই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ বনজ সম্পদ ধ্বংস করার সাহস না পায়।”
অভিযানের সাথে সম্পৃক্ত বিজিবি রেজু আমতলী ক্যাম্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান দমনের পাশাপাশি বনসম্পদ রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনের সাথে বিজিবি অতীতেও কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বনের সুরক্ষায় যেকোনো নাশকতা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
উখিয়ায় বনবিভাগ ও বিজিবি’র এই যৌথ অভিযান বন ধ্বংসকারী চক্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা। পাহাড় ও বনাঞ্চল ধ্বংস করে যারা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে, তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা প্রয়োজন। বন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান ও বিজিবি রেজু আমতলীর এই যৌথ উদ্যোগের মতো নিয়মিত ও জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকলে উখিয়ার অমূল্য বনজ সম্পদ রক্ষা পাবে এবং অপরাধীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হবে।
