-
মেহেদী রিপোর্ট
কক্সবাজারের উখিয়া থানাধীন এলাকায় অপরাধ দমন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে উখিয়া থানার সুযোগ্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদারের নেতৃত্বে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি একনলা ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি তাদের সাথে থাকা অবৈধ বন্দুক ফেলে দ্রুত অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করতে পারে নাই।
শুক্রবার দিবাগত-রাত (৩১ অক্টোবর) মধ্যম হলদিয়া বাগঘোলা মার্কেট বীর কমলার দীঘির উত্তরপাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওসি আতিকুর রহমান মজুমদারের কঠোর ও যুগোপযোগী নির্দেশনায় এই সফল অভিযান বাস্তবায়িত হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ৩১/১০/২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ শুক্রবার দিবাগত-রাত অনুমান ০১:০৫ ঘটিকায় উখিয়া থানাধীন বাঘঘোলা মার্কেট সংলগ্ন বীর কমলার দীঘির উত্তর পাড় এলাকায় উখিয়া থানার একটি বিশেষ অভিযান টিম ডিউটি করাকালে দুজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি তাদের সাথে থাকা একটি অবৈধ অস্ত্র ফেলে দ্রুত অন্ধকারে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে পুলিশ জব্দতালিকা মূলে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রটি জব্দ করে।

জব্দকৃত অস্ত্রটা একটি দেশীয় তৈরি একনলা ওয়ান শুটারগান। এবং কাঠের বাটযুক্ত, বাটসহ লম্বায় ৩৮ ইঞ্চি।
সফল এই অভিযান সম্পর্কে উখিয়া থানার চৌকস অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, “উখিয়া থানাকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। রাতের আঁধারে অপরাধের পরিকল্পনা বা অস্ত্র বহনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের টহল দল তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। অস্ত্রটি ফেলে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে। তাদের গ্রেফতারে আমাদের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ পুলিশের এই সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, রাতের আধারে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিক ও কুলসুম বেগম বলেন, “রাতে প্রায় সময় বিভিন্ন সন্দেহভাজনদের আনাগোনা দেখা যায়। ওসি আতিকুর রহমান মজুমদারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পুলিশ যেভাবে ঝুঁকি নিয়ে রাতের বেলা অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করেছে, তাতে আমরা সাধারণ মানুষ অনেক নিরাপদ বোধ করছি।”
উখিয়ার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার নুরুল আবছার বলেন, “উখিয়া একটি সংবেদনশীল ও জনবহুল এলাকা। এখানে অপরাধমূলক কার্যক্রম দমনে পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। ওসি আতিকুর রহমান মজুমদারের যোগদানের পর থেকে অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা প্রশংসনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবৈধ অস্ত্র কার নেপথ্যে এবং কোথায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, তা উদঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি।”
অস্ত্রধারীদের দৌরাত্ম্য ও বিভিন্ন অপরাধের শিকার হওয়া স্থানীয় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের মতো সাধারণ মানুষ সবসময় অপরাধীদের ভয়ে আতঙ্কে থাকে। যদি পুলিশ এভাবে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে পারে, তবে সন্ত্রাসীরা আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও পান্না আক্তার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উখিয়া উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এই ধরনের অভিযান আগামীতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি বর্তমানে থানায় সুরক্ষিত রয়েছে। অস্ত্রটি ফেলে পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতারে উখিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে উখিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাতের আঁধারে উখিয়া থানা পুলিশের এই সফল অস্ত্র উদ্ধার অভিযান প্রমাণ করে যে, জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওসি আতিকুর রহমান মজুমদারের নেতৃত্বাধীন পুলিশ বাহিনী কতটা তৎপর। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং পুলিশি নজরদারি ও জনগণের সচেতন সহযোগিতায় উখিয়া থানাকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
