* শেষ দিনে ২১ হাট বাজারে ৬৮টি দরপত্র বিক্রি
* দরপত্রের চাহিদা থাকলে ও বিক্রি না হওয়ায় রাজস্ব বঞ্চিত সরকার
* দরপত্র ফরম পুনরায় দেওয়ার দাবি
মহেশখালী প্রতিনিধি
মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দরপত্র ফরম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ফরম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ১৭ই ফেব্রুয়ারী দুপুর থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে ফরম না পেয়ে একাধিক দরপত্র ফরম প্রত্যাশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মূকত প্রশাসন একটি সিন্ডিকেটের সাথে আতত করে দরপত্র ফরম দেয়নি বলে জানান। ২১টি হাট বাজারের অনুকূলে মাত্র ৬৮টি দরপত্র ফরম বিক্রি হয়েছে। ফলে অনেকেই দরপত্র নিতে না পারায় রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার।
এদিকে সরেজমিনে, ১৭ই ফেব্রুয়ারী বিকাল ৪টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গেলে ফরম বিতরণের রুমটি (তালা ছাড়া) বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যন্যা স্টাফের সাথে কথা বললে তারা জানান,দরপত্র ফরম দেওয়ার দায়িত্ব অফিসের প্রনয় নামে এক কর্মচারীর। সে কোথায় জানতে চাইলে অডিট করতে গেছে বলে জানান। এদিকে প্রণয়ের ফোন নাম্বারে একাধিক কল দিলেও রিসিভ করেননি। ফলে অনেকেই জানান,সিন্ডিকেটের সাথে আতত করে সে ফরম না দেওয়ার জন্য সরিয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন।
অভিযোগ ওঠে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডেকেটের সাথে আতত করে ইউএনও অফিসের কর্মচারী প্রণয় কুমার পছন্দের ব্যক্তিদের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়াসহ বেশি মূল্য দরপত্র ফরম বিক্রি করে আসছে। এদিকে (আজ) বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সিন্ডিকেটের প্রভাবে অডিটটের নাম দিয়ে অফিস টাইম বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত দরপত্র ফরম বিক্রি বন্ধ করে অডিট করার নামে তার রুম ত্যাগ করে ব্যস্ত থাকেন। বিকাল ৫টার সাথে সাথে তড়িগড়ি করে রেজিস্টারে ইউএনও স্বাক্ষর নিয়ে ফরম দেওয়া বন্ধ করে দেন।
সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফ্রেবুয়ারী ২০২২ইং মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলামের কার্যলয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা উপজেলাধীন হাটবাজার / ফেরীঘাট ও ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত হাটবাজারসমূহ ১৪২৯ বাংলা সনের ২১টি হাট-বাজারের দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্রের শেষ দিনে উপজেলার ২১ টি হাট বাজারে ৬৮ টি দরপত্রের ফরম দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।আগামী ২০শে ফেব্রুয়ারি বেলা ১ টার আগেই দরপত্র দাখিল করতে হবে এবং ১টার পরই দরপত্র খোলা হবে বলে জানান।
হোয়ানন বণিক বাজার সমিতির সভাপতি মকসুদ আলম জানান, হোয়ানক থেকে গফুর,জানে আলম সহ আর কয়েকজন দুপুরে উপজেলা অফিসে এসেও ফরম পায়নি৷ কথা হচ্ছে টেন্ডার যে পাবে সেই ডাক নিক বাজারটি। তবে ফরম বিক্রি কেন করেনি? পরে অভিযোগ জানাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কল দিলে রিসিভ করে কেটে দেন। পরে এসএমএস দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি বলে জানান।
শাপলাপুরের মোঃ ওসমান জানান, সকাল থেকে অফিসে এসেই জেনেছি, প্রণয় নামে এক স্টাফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ফরম বিক্রির জন্য। কিন্তু সে অডিট করার নামে কোথায় চলে যান, তাকে একাধিক বার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেন নি। যার কারণে ফরম নিতে পারেনি। আমি এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
এবিষয় মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, হাটবাজারের দরপত্র ফরম পাইনি এরকম কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানান।
