৯৯৯-এ কল পেয়ে দ্রুত অভিযানে পুলিশ; লুট হওয়া টাকা ও আলামত উদ্ধার

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার সদর থানাধীন পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের লাইট হাউজ পাড়ার হিল ডাউন রিসোর্ট সংলগ্ন একটি দোকানে চাঁদাবাজি, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মোঃ সাদেক হোসেন খোকা (৪৪) নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী মির্জা মোহাম্মদ আসলাম বেগ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হিল ডাউন রিসোর্ট সংলগ্ন “মির্জা এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি বিকাশ, নগদ ও গ্যাসের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গ্রেপ্তারকৃত খোকা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন খোকা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে জোরপূর্বক দোকানে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করে এবং দোকানে ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ সময় দোকানের ক্যাশ ড্রয়ার ও মানিব্যাগ থেকে বিকাশ, নগদ লেনদেন ও গ্যাস বিক্রির প্রায় ৯৯ হাজার টাকা লুট করে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে খোকাকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, আটকের সময় তার কাছ থেকে নগদ ১৩ হাজার ৮০০ টাকা, একটি কালো মানিব্যাগ, দুটি চামচ, একটি ছোট কাঁচি, একটি ম্যাক্সটেল বাটন মোবাইল ফোন (২টি সিমসহ) এবং একটি নাম্বারবিহীন হিরো এক্সট্রিম ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কিছু আলামত বাদীর প্রতিষ্ঠান থেকে লুট করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং ৬৫/১৯৫। মামলা দায়ের করার পর গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া খোকা দীর্ঘদিন ধরে হোটেল মোটেল জোন এলাকার পর্যটকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবী, ছিনতাই, মারধর ও অপহরণ সহ নানা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত। তার বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তাকে ইতিপূর্বেও একাধিক মামলায় বেশ কয়েকবার কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। পরবর্তী জামিনে এসে পুনরায় অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।
এদিকে, অভিযুক্ত খোকাকে গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় এলাকাবাসী সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকতা এসআই রুহুল আমিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এবং এলাকাবাসী তার কঠিন শাস্তি দাবী করেছেন।
