নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী ইউনিয়নের মোহাম্মদ শফিরবিল এলাকায় আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী দাবি করা পক্ষের অভিযোগ, নুরুল আমিন গংয়ের খতিয়ানভুক্ত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, যাতে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ বা দখল পরিবর্তন করতে না পারে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদ হোসেন ও তার কয়েক ভাই শামশুল আলম ও মোহাম্মদ আলীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র গঠন করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে ভবন নির্মাণ শুরু করেন।

অভিযোগকারীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হলেও তারা চলে যাওয়ার পর পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়।

এমনকি নির্বাচনকালীন সময়ে অফিস-আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে দ্রুতগতিতে নির্মাণ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। নির্মাণাধীন দেয়ালে নিজেদের নামে জমির দাগ ও খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জমিটি অভিযুক্তদের নয় এবং তারা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, অভিযুক্ত মোহাম্মদ হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক ব্যবসা, মানবপাচার ও ভূমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা জানান, ২০১৮ সালে রাজধানী ঢাকায় র‌্যাবের হাতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক হন মোহাম্মদ হোসেন। পরে দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। এছাড়া তার এক ভাইকেও ইয়াবাসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ হোসেন দাবি করেছেন, আদালতের ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে তারা অবগত নন। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হলে আইন মেনে চলবেন বলে তিনি জানান। ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মামলা চলমান থাকলেও নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা বিরোধপূর্ণ জমিতে সকল প্রকার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা, আদালতের আদেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *