সংবাদ পরিবেশক:

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর মোহাম্মদ শফিরবিল এলাকায় আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। যাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা, মানবপাচার ও ভূমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- নুরুল আমিন ও তার ওয়ারিশদের মালিকানাধীন জমি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন। আদালত থেকে ওই জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা দখল কার্যক্রম বন্ধ রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে মোহাম্মদ হোসেন গং জোরপূর্বক নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান- প্রশাসন বা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ রাখা হলেও তারা চলে গেলে পুনরায় শ্রমিক এনে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়- বিরোধীয় জমিটি নিয়ে প্রায় ১৭ বছর ধরে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা ভোগদখল পরিবর্তন না করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে- বিরোধীয় জমিতে দেয়ালে নিজেদের নামে দাগ ও খতিয়ান লিখে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। অথচ জমিটির বৈধ মালিকানা তাদের নয় বলে দাবি করেন জমির প্রকৃত মালিকপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- অভিযুক্ত মোহাম্মদ হোসেন, তার ভাই শামসুল আলম, মোহাম্মদ আলীসহ কয়েকজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা, মানবপাচার, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

অভিযোগ রয়েছে- মোহাম্মদ হোসেন ২০১৮ সালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ অর্থসহ রাজধানী ঢাকায় ১ লাখ ২১ হাজার ইয়াবা এবং তার ছোট ভাই জসিম এবং অপর ২ সহযোগী সহ নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে র্যাবের হাতে আটক হন। ওই ঘটনায় তিনি দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর কেরানীগন্জ কারাগারে কারাভোগ করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়- মোহাম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের রামু থানায় এফআইআর নং-২৩/১৫ (তারিখ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫), জি আর নং-২৮০/১৫ (রামু) মামলা দায়ের হয়, যা ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৯(খ) ধারায় রুজু করা হয়। এছাড়া চকরিয়া থানায় এফআইআর নং-২৯, তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১০, জি আর নং-১২১/১০ (চকরিয়া) মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে দণ্ডবিধির ৩৮৬/৩৪২/৩২৩/৩০৭/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে তার ভাই শামসুল আলমের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে- বিভিন্ন সময়ে ভূমি দখল ও সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়- শামসুল আলমের বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিভুক্ত মামলা রয়েছে এবং এসব মামলার তদন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া তাদের আরেক ভাই মোহাম্মদ আলীকে একসময় নিজ বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাকে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হলে মাদক আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেন- ইয়াবা ব্যবসার কালো টাকার প্রভাব ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গরিব ও অসহায় ওয়ারিশদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দাবি করেন- এক সময় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে নতুন পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ওই চক্রটি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন- আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চলতে থাকা আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী বিরোধীয় জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করা, আদালতের আদেশ কার্যকর করা এবং অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য যে, বিরোধীয় জমি নিয়ে গত ১/০৩/২০২৬ কক্সবাজার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অপর মামলা নং- ৮৩/২০২২ এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বা স্টাটাস ক্যু বজার রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *